স্বপ্ন রাজ্যের খোজে রাজু

সাজেদুর রহমান রাজু। পড়ালেখা করেছেন মাইক্রোবায়োলজী বিভাগে, ভাল ছবি আকতে পারেন অর্থাৎ ভালমানের একজন পেইন্টার, নাটকে অভিনয় করেন এছাড়া জাদুর ভেলকি দেখিয়ে মানুষকে চমকে দিতেও বেশ পারদর্শী। নিজেকে কি হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন এমন প্রশ্নে  তিনি সবসময়ই বলেন, আই এম এ ম্যাজিশিয়ান। অর্থাৎ তিনি নিজেকে জাদুকর হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশী ভাল বাসেন।

কোন এক ছুটির দিনে স্থানীয় এক মেলায় ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন মায়ের হাত ধরে। ক্লাস টু কিংবা  থ্রীতে পড়া বাচ্চার বয়স আর কতই হবে। বড় জোর ৬-৭ বছর হবে। মেলার এক প্রান্তে একটা জটলা দেখে মাকে নিয়ে এগিয়ে গেলেন রাজু। গিয়ে দেখলেন,এক জাদুকর আপন মনে জাদু দেখিয়ে যাচ্ছে। দর্শকবৃন্দও হাততালি এবং বাহবাহ দিয়ে উপভোগ করছে তার জাদু । কিন্তু ছোট্ট ছেলে রাজু শুধু ভেলকি বাজী দেখতে নয় জাদু শেখার পণও করে বসলেন মনে মনে। কিনে ফেললেন জাদু বিদ্যা শেখার কিছু বই। যত সহজে বই কেনার কথা বললাম বই কেনাটা আসলে এত সহজ ছিল না। কারন, যেখানে প্রতিযোগিতার এই যুগে সমাজের আর দশটা ছেলে প্রতিযোগিতার যুদ্ধে নেমে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে ছেলেকে কেউ অহেতুক জাদুর বই কিনে দিয়ে ছেলের ভবিষ্যৎ টাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। তবুও অনেক কষ্টে মাকে রাজী করে কেনা বই গুলো পড়তে শুরু করলেন গোপনে গোপনে।  সেই সাথে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আয়ত্ব করতে শুরু করলেন কাংক্ষিত জাদু খেলা। প্রথম দিকে স্কুল কলেজের সহপাঠীদের নিজের আগ্রহে জাদু দেখালেও আজ  তিনি জাদু দেখাচ্ছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল সহ বিভিন্ন শপিংমল, বিয়ের অনুষ্ঠান এমন কি দেশের বাইরেও অর্থাৎ সম্প্রতি তিনি ভারতেও ম্যাজিক শো করছেন।

মানুষকে হাসাতে ভালবাসা মানুষের মুখে বিষ্ময়ের ছাপ দেখতে পাওয়ার আনন্দে আত্মহারা হওয়া মাইক্রোবায়োলজিস্ট রাজু বলেন, “আসলে, মানুষকে জাদু দেখিয়ে মানুষকে ভেলকিবাজীর গোলক ধাধায় ফেলে আনন্দ দেয়ার মত ভাললাগার কাজ আমার কাছে আর কিছু হতে পারেনা। আমার বিশ্বাস, একদিন কঠোর প্ররিশ্রমের মাধ্যমে এই হাসি আনন্দের জাদু রাজ্যে নিজেকে বিশ্বের কাছে মেলে ধরতে পারব। পারব, বাংলাদেশের রাজু হয়ে বিশ্বের নানান দেশ এবং শ্রেনী পেশার মানুষকে হাসি তামাশার রঙ মেখে হারিয়ে নিয়ে যেতে ক্ষনিকের তরে। আর, সেদিনই খুজে পাব আমার স্বপ্ন রাজ্যের।“

মামুনুর রশিদ রাজিব